প্রকাশিত: / বার পড়া হয়েছে
শীত কাল আসলেই ব্রিকস ফিল্ড গুলোর খোরাক জোগাতে প্রয়োজন হয় মাটির, আর সেই মাটির একমাত্র উৎস ফসলি জমি। এই জমির মাটি নিয়ে চলে রম রমা ব্যাবসা। অন্য দিকে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার কারনে ফসল না পেয়ে কৃষকের মাথায় পড়ে হতাশার হাত।
পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে বার বার ফসলি জমির মাটি রক্ষার কথা বলা হলেও বাস্তবে প্রসাশনের কর্মকাণ্ড থাকে সীমিত।
সপ্তাহে একদিনের অভিযান ১ বা ২ জনকে জরিমানা, কয়েকটি মাটিকাটার যন্ত্র বিকল এতেই সীমাবদ্ধ থাকে প্রশাসনের তৎপরতা। মূলত রাজনৈতিক ও প্রশাসনের যোগসাজশে চলে এই মাটি কাটার মহাউৎসব। যে এলাকায় যে দল প্রভাবশালী সে এলাকায় সেই দলের নেতার ছত্রছায়ায় চলে মাটির ব্যাবসা।
প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ট্রাক ও ট্রাক্টরযোগে মাটি পরিবহন করে নেয়া হয় ব্রিকস ফিল্ডে। এর ফলে গ্রামীণ সরু রাস্তাগুলো চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভারি যানবাহনের চলাচলের কারণে রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এবং রাতে সাধারণ মানুষের চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রশাসনের ভূমিকা ও ম্যানেজ কালচারে জানা গেছে,
জেলা ও উপজেলা প্রশাসন মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করলেও বিভিন্ন এলাকার কিছু অসাধু ও ক্ষমতাবান লোকজনকে 'ম্যানেজ' করে প্রভাবশালীরা অবৈধ এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রশাসনের নজরদারির আড়ালে মাটি খেকোরা হয়ে উঠেছে আরও বেপরোয়া।
পরিবেশ ও কৃষিতে প্রভাব, কৃষি জমির উর্বরতা নষ্ট, ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নেওয়ায় জমির স ্বাভাবিক উৎপাদন ক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা আর্থিক প্রলোভনে পড়ে বা নিরুপায় হয়ে মাটি বিক্রি করছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি। অতিরিক্ত মাটি বোঝাই ট্রাকের ভারে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গ্রামীণ রাস্তাঘাট ধসে যাচ্ছে। ধুলাবালির কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও জীবিকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।
ফসলি জমিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাত হলে সবার আগে প্রয়োজন ব্রিকস ফিল্ড গুলো বন্ধ করা। মাঝে মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের লোক জন হাতে গুনা কয়েকটি ব্রিকস ফিল্ড বন্ধ করলেও কিছুদিন পর আবার ম্যানেজ করে সেগুলো সচল করে মালিক রা।
জনমনে প্রশ্ন একবার বন্ধ হলে সেটি আবার কি করে সচল হয়? কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তর খুবই দূর্লভ। সব কিছু প্রশাসনের চোখের সামনে চললেও তাদের হাত পা যেন অসাড়, যেন তারা কিছুই করছে না বা করতে চাইছে না।
কৃষকের মুখে ফসলের হাসি এই শ্লোগান টি এখন আর শোনা যায় না। কারন ফসল উৎপাদনের জমিন টি উর্বরতা হারিয়ে ক্ষত বিক্ষত। খাদ্য উৎপাদনে ভূমিকা রাখা এই ফসলের জমি গুলো উর্বরতা নষ্টের হাত থেকে রক্ষা করতে না পারলে অচিরেই বাংলাদেশে খাদ্য সংকট দেখা দিবে বলে ধারনা করছে কৃষিবিদরা। ফলে ১৮ কোটি জনগণের খাদ্যের যোগান মেটাতে ধরনা দিতে হবে বিদেশের। এতে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের পাশাপাশি হাত দিতে হবে দেশের রিজার্ভে যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য অশনি সংকেত।
তাই ফসলি জমি রক্ষায় সরকার কে আরো উদ্যোগী হয়ে মূল জায়গায় কাজ করতে হবে। মাথা বাঁচিয়ে লেজ কাটলে শুধু দেশের সম্পদই নষ্ট হবে কার্যত কিছুই হবে না।
পরিবেশ বান্ধব ব্রিকস ফিল্ড স্থাপনের উদ্যোগে আরো কঠোর হওয়া, আইনের প্রয়োগে আরো আন্তরিক, এলাকায় এলাকায় মাইকিং করে জনগণকে সচেতনার পাশাপাশি মাটির ব্রিকস ফিল্ড গুলো বন্ধে কঠোর নীতি প্রয়োগ, মাটি ক্রেতার সাথে বিক্রেতাদের আইনের আওতায় আনাসহ এই বিষয়ে কঠোর না হলে আগামীতে খাদ্য আমদানিতে বিশ্বের ৩য় দেশ থেকে প্রথম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।